Wellcome to National Portal
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩১st August ২০২২

ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপলাইন প্রকল্প

বাংলাদেশ সরকার দেশে ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের চাহিদাপূরণ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে "ইনস্টলেশন অব সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) উইথ ডাবল পাইপ লাইন" প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এর পক্ষে ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড (ইআরএল) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে আমদানিকৃত ক্রুড অয়েল এবং এইচএসডি সহজে, নিরাপদে, স্বল্প খরচে এবং স্বল্পতম সময়ে মাদার ভেসেল হতে খালাস নিশ্চিত করা যাবে। ক্রুড অয়েল ও ডিজেল ট্যাংক স্থাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ ক্ষমতা বৃদ্ধি ও যোগানের নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা যাবে।

মহেশখালীতে নির্মাণাধীন পাম্পিং স্টেশন ও ট্যাংক ফার্ম এর থ্রিডি মডেল

শীর্ষক প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকার এবং চীন সরকারের মধ্যে জি টু জি ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় মহেশখালি দ্বীপের পশ্চিমে (বঙ্গোপসাগরে) একটি এসপিএম তথা ভাসমান জেটি ইতোমধ্যে স্থাপন করা হয়েছে এবং উক্ত জেটি হতে কক্সবাজার জেলাস্থ মহেশখালি উপজেলায় স্থাপিতব্য পাম্প স্টেশন ও ট্যাংক ফার্ম (পিএসটিএফ) হয়ে চট্টগ্রাম জেলার উত্তর পতেঙ্গাস্থ ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড পর্যন্ত ১১০ কিঃমিঃ দৈর্ঘ্যের ২ (দুই) টি সমান্তরাল পাইপলাইন স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া মহেশখালি উপজেলার নির্ধারিত জায়গায় পাম্প স্টেশন ও ট্যাংক ফার্ম (পিএসটিএফ) এলাকায় ৩ টি ক্রুড অয়েল ও ৩ টি ফিনিসড্ প্রডাক্ট ট্যাংকস্, স্কাডা সিস্টেমস্, প্রধান পাম্প, বুস্টার পাম্প, জেনারেটর, মিটারিং স্টেশন, পিগিং স্টেশন, অফিস ও আবাসিক ভবন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রয়োজনীয় সকল অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।

 

প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত পটভূমিঃ

ইআরএল বিপিসি-র আওতাধীন একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এবং দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পেট্রোলিয়াম অয়েল রিফাইনারী। বর্তমানে ইআরএল এর বাৎসরিক ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মে.টন। বর্তমানে দেশে জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রতিবছর প্রায় ৫.০ মিঃ মে. টন এইচএসডি আমদানী করার প্রয়োজন হয়।

চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা এবং কর্ণফুলী নদীর চ্যানেলের নাব্যতা কম (৮-১৪ মি:) হওয়ায় মাদার অয়েল ট্যাঙ্কারগুলো সরাসরি খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে মাদার অয়েল ট্যাঙ্কারগুলো গভীর সমুদ্রে নোঙ্গর করে ছোট ছোট লাইটারেজ ভেসেল এর মাধ্যমে ক্রুড অয়েল খালাস করা হয়। এভাবে ১১ দিনে একটি ১০০,০০০ ডিডব্লিউটি ট্যাঙ্কার খালাস করা হয়। বর্তমানে ইআরএল এর বাৎসরিক ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মে.টন। প্রস্তাবিত ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ইআরএল এর বাৎসরিক ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়ে হবে ৪.৫ মিলিয়ন মে.টন।  বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে লাইটারেজ পদ্ধতিতে তেল খালাস করা অত্যন্ত সময় সাপেক্ষ, ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়বহুল এবং ভবিষ্যৎ চাহিদার বিবেচনায় ও বাস্তবতার নিরিখে সম্ভবপর হবে না। এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে লাইটারেজ-এর মাধ্যমে পরিবহণ খরচ ও অপচয়সহ প্রতি বছর সরকারের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

 

এসপিএম বয়াটি মহেশখালী দ্বীপের পশ্চিম পার্শ্বে বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত হয়েছে। জাহাজ থেকে তেল সরাসরি পাম্প করা হবে যা এসপিএম হয়ে অফশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে মাতারবাড়ি এলটিই (ল্যান্ড র্টামিনাল ইন্ড) পর্যন্ত এবং সেখান থেকে অনশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে মহেশখালী এলাকায় স্থাপিত স্টোরেজ ট্যাংকে জমা হবে। এসপিএম হতে ৩৬ইঞ্চি ব্যাসের ২টি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল আনলোডিং করা হবে। স্টোরেজ ট্যাংক থেকে পাম্পিং এর মাধ্যমে তেল প্রথমে অনশোর ও পরবর্তীতে অফশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে চট্রগ্রামে অবস্থিত গহিরা এলটিই পর্যন্ত এসে পুনরায় অনশোর পাইপলাইনের মাধ্যমে কেইপিজেড এর ভিতর দিয়ে ডাংগারচর পর্যন্ত এসে কর্ণফুলী নদী এইচডিডি এর মাধ্যমে ক্রস করে পদ্মা অয়েল কোম্পানী’র ভিতর দিয়ে ইআরএল-এ পাঠানো হবে। ট্যাংক ফার্ম থেকে ১৮ ইঞ্চি ব্যাসের ২টি পৃথক পাইপলাইনের মাধ্যমে ক্রুড অয়েল এবং ডিজেল খালাস করা হবে।

মহেশখালীতে নির্মাণাধীন পাম্পিং স্টেশন ও ট্যাংক ফার্ম এর সামগ্রিক চিত্র্র

প্রকল্পের উদ্দেশ্য

  • আমদানীকৃত ক্রুড অয়েল ও ফিনিসড্ প্রোডাক্টস সহজে খালাস নিশ্চিত করা;
  • ক্রুড অয়েল ও এইচএসডি (হাই স্পিড ডিজেল) খালাসকরণের সময় হ্রাস করা; ১,২০,০০০ ডিডব্লিউটি (ডেড ওয়েট টনেজ) ক্রুড অয়েল ট্যাংকার খালাসকরণের ব্যাপ্তি হবে ৪৮ ঘন্টা এবং ৭০,০০০ ডিডব্লিউটি এইচএসডি ট্যাংকার খালাসকরণের ব্যাপ্তি হবে ২৮ ঘন্টা;
  • লাইটারেজ অপারেশন সংশ্লিষ্ট খরচ কমানো;
  • দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ইআরএল’র বাৎসরিক ক্রুড অয়েল প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা ১.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন হতে ৪.৫ মিলিয়ন মেট্রিক টনে বৃদ্ধিতে সহায়তা করা;
  • মহেশখালিতে স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করা যেগুলো ইআরএল’র জরুরী শাটডাউন কালীন সময়ে ব্যাকআপ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। প্রতিটি ৫০,০০০ ঘন মিঃ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি ক্রুড অয়েল স্টোরেজ ট্যাংক এবং প্রতিটি ৩০,০০০ ঘন মিঃ ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ৩টি এইচএসডি স্টোরেজ ট্যাংক স্থাপন করা হবে।

 

প্রকল্পের পরামর্শকঃ ILF Consulting Engineers, Germany প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিয়োজিত রয়েছে।

প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদারঃ জি টু জি ভিত্তিতে China Petroleum Pipeline Engineering Co., Ltd (CPPEC) প্রকল্পের ইপিসি ঠিকাদার হিসেবে নিয়োজিত হয়েছে।

প্রকল্পে বৈদেশিক সহায়তাঃ চায়না এক্সিম ব্যাংক।

 

প্রকল্পের এসপিএম এর বৈশিষ্ট্যাবলী :

এসপিএম এর ধরণ : Catenary Anchor Leg Mooring(CALM), Double Flow Path

বাৎসরিক আনলোডিং ক্ষমতা : মোট  ৯.০ মিলিয়ন মে. টন

আনলোডিং সময় :    ১,২০,০০০ ডিডব্লিউটি ক্রুড অয়েল ট্যাংকার = ৪৮ ঘন্টা

                             ৭০,০০০ ডিডব্লিউটি ডিজেল ট্যাংকার      = ২৮ ঘন্টা

প্রকল্পটির প্রধান প্রধান কার্যক্রমঃ

ক) এসপিএম, পিএলইএম স্থাপন

খ) মোট অফশোর পাইপলাইন ১৪৬ কিঃ মিঃ (আনুমানিক)

    মোট অনশোর পাইপলাইন = ৭৪ কিঃ মিঃ (আনুমানিক)

    সর্বমোট পাইপলাইন (১৮", ৩৬") = ২২০ কিঃ মিঃ (আনুমানিক)

গ) এইচডিডি ক্রসিং

ঘ) মহেশখালী এলাকায় স্টোরেজ ট্যাংক ও পাম্পিং স্টেশন স্থাপন : ৩ টি ক্রুড অয়েল (প্রতিটির নেট ধারণ ক্ষমতা ৫০,০০০ ঘঃ মিঃ) ও ৩টি ডিজেল ট্যাংক (প্রতিটির নেট ধারণ ক্ষমতা ৩০,০০০ ঘঃ মিঃ), ব্লক ভাল্ভ স্টেশন, পিগিং স্টেশন, মিটারিং স্টেশন,স্কাডা, মেইন ও বুষ্টার পাম্প, জেনারেটর, সিকিউরিটি সিস্টেম ও ফায়ার ভেহিকেল, ফায়ার ওয়াটার নেটওয়ার্ক, পাম্প ও ওয়াটার স্টোরেজ সুবিধাদিসহ ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম।

 

বঙ্গোপসাগরের নির্ধারিত স্থানে স্থাপিত সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং বয়ার চিত্র

Share with :

Facebook Facebook